যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লংঘন করে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বর্বর হামলার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের মানববন্ধন।।
বেসামরিক নারী-শিশু হত্যার দায়ে ইসরাইলের উপর জাতিসংঘ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে - সাঈদা রুম্মান
ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করে জাতিসংঘের সদস্যপদ বাতিল করার দাবি - মহানগরী দক্ষিণ, মহিলা জামায়াতের।।
যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লংঘন করে ফিলিস্তিনের বেসামরিক নারী-শিশু, কিশোর-কিশোরী হত্যার দায়ে জাতিসংঘ কর্তৃক ইসরাইলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী সাঈদা রুম্মান বলেন, পৃথিবীর সকল ধর্মের সকল দেশের নাগরিকদের সমান দৃষ্টিতে দেখতে হবে। সারা বিশ্বে মুসলিমরা নির্যাতিত হলে জাতিসংঘ অনেকটা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অথচ বিশ্ব নেতারা মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর নিজেদের দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। সারা বিশ্বে মুসলিম নেতাদের হাতে কোন অমুসলিম নির্যাতিত না হলেও অমুসলিম নেতাদের হাতে মুসলিমদের রক্ত লেগে আছে। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক মুসলমানদের প্রথম কাবা মসজিদুল আকসা দখল করে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নিজ দেশ থেকে উচ্ছেদ করতে সন্ত্রাসী নেতানিয়াহু পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লংঘন করে ফিলিস্তিনে বর্বর হামলা চালিয়ে বেসামরিক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-কিশোরীদের হত্যা করেছে। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ব্যবস্থা গ্রহন না করলে মুসলিম সম্প্রদায় মনে করবে জাতিসংঘের সমর্থনেই মুসলিমদের হত্যা করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে গণহত্যার দায়ে নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে। স্বাধীন ফিলিস্তিনে সন্ত্রাসী ইসরাইল কর্তৃক বর্বরোচিত হামলা বন্ধ করতে হবে। ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করে জাতিসংঘের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ।
শনিবার (২২ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে ‘যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লংঘন করে ফিলিস্তিনে ইসরাইলী বর্বর হামলার প্রতিবাদে’- আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমী’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবা খাতুন শরীফা বলেন,
মুসলিম শক্তি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একমাত্র উপায়ই হচ্ছে কুরআন কে আঁকড়ে ধরা ও রাসুলের সুন্নাহ্ কে অনুসরণ করা।
গত ১৮ ই মার্চ দিবাগত রাতে পবিত্র মাহে রমযানের পবিত্রতা কে চপেটাঘাত করে মানবতার দুশমন ইসরাইল নিরীহ ও নিরপরাধ গাজাবাসীর উপর নির্মম হত্যা যজ্ঞ চালায়, ইসরাইলের নারকীয় বিমান হামলায় মুহুর্তে ধ্বসে পড়ে অসংখ্য বাড়ি ঘর। ধ্বংস স্তুপের নিচে চাপা পরে ছোট্ট ছোট্ট নিষ্পাপ কচি মুখ। সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে মুসলিম বিবেকের কাছে প্রশ্ন করতে চাই?
আমরা দুই শত দুই কোটি মুসলিম কেন মাত্র দুই গোটি ৫৭ লক্ষ ইয়াহুদী চক্রের বিরূদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি না? কারণ আমাদের ঈমান আজ মরে গেছে, মুসলিম বিশ্ব আজ বিভক্ত হয়ে গেছে। আর মুসলিম শক্তি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একমাত্র উপায়ই হচ্ছে কুরআন কে আঁকড়ে ধরা ও রাসুলের সুন্নাহ্ কে অনুসরণ করা।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী জান্নাতুল কারীম সুইটি বলেন, কোন সভ্য জাতি গণহত্যা চালাতে পারে না। ইসরাইলি গোষ্ঠী পৃথিবীর ইতিহাসে এক অসভ্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তিনি অন্তবর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে ইসরাইলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে জাতিসংঘের কাছে দাবি জানাতে হবে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসরাইলের সাথে শান্তিকামী বাংলাদেশের কোন সম্পর্ক ছিল না। ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের পাসপোর্টে ইসরাইলের উপর যেই নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি গোপনে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কারণ এক ফ্যাসিবাদ আরেক ফ্যাসিবাদের সাথে সম্পর্ক করে। বাংলাদেশ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে সুতরাং এক সাপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্টে ইসরাইলের উপর যেই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে হবে।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন
নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সেক্রেটারী, মহিলা বিভাগ,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,
মারজিয়া বেগম,সহকারী সেক্রেটারী,বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী।। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রোজিনা আখতার, সালমা সুলতানা,নাজমুন্নাহার নীলু।
আজকের মানববন্ধনে মহানগরী কর্ম পরিষদ সদস্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
রিক্তা বেগম,উম্মে কুলসুম রীনা ,রাবেয়া খানম প্রমুখ।